প্রেগনেন্ট বা গর্ভ অবস্থায় কোমর ব্যথা কমানো সম্পর্কে ঃ
দেশ এবং দেশের বাইরের বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারেরা যা পরামর্শ দিয়েছেন ঃ-
প্রেগনেন্ট বা গর্ভ অবস্থায় কোমর ব্যাথা সমস্যাটি প্রায় সকল গর্ভবতী মহিলার মধ্যে দেখা যায়। বিশেষ করে এটি গর্ব অবস্থার প্রথম এবং শেষ দিকে বেশি দেখা যায়। মূলত এ সমস্যাটি লিগামেন্ট ঢিলা হওয়ার কারণে হয়ে থাকে।
লিগামেন্ট হলো শরীরের এক ধরনের অতি গুরুত্বপূর্ণ টিস্যু। যা সুতার মতো কাজ করে। শরীরের হাড় ও জয়েন্ট গুলো লিগামেন্টের সাহায্যে একে অপরের সাথে যুক্ত থাকে।
আর তাই গর্ভ অবস্থায় পেটের মধ্যে বাচ্চা যখন ধীরে ধীরে বৃদ্ধি হতে থাকে, যার ফলে এই লিগামেন্ট গুলোও বাচ্চা বৃদ্ধির সাথে সাথে নরম ও ঢিলা হতে থাকে এবং শরীরকে ধীরে ধীরে বাচ্চা প্রসবের জন্য প্রস্তুত করে তুলে। ফলে পেটের ওজন সরাসরি অনেকটা কোমরে গিয়ে পড়ে। এবং সেখান থেকেই শুরু হয় কোমর ব্যথা ।
চলুন জেনে নিই
- সঠিক নিয়মে ব্যাথা সারানোর উপায়
- ব্যায়াম করে ব্যথা কমানোর উপায়
প্রেগনেন্ট বা গর্ভ অবস্থায় কোমর ব্যথা কমানোর উপায়
নিচে কোমর ব্যথা কমানোর জন্য ৬ টি টিপস তুলে ধরা হলো >>>>>
১. বিশ্রাম নিন, তবে খেয়াল রাখবেন সারাদিন একই ভাবে থাকবেন না যেমন দীর্ঘক্ষন শুয়ে থাকবেন না বা দীর্ঘক্ষন বসেও থাকেন।
2. বসে, দাঁড়িয়, বা শুয়ে যে অবস্থায় থাকেন অবশ্যই সোজাভাবে থাকবেন এক কথায় বলতে মেরুদন্ড টা সোজা রাখার চেষ্টা করবেন, তবে খেয়াল রাখবেন কাত হয়ে শুলে পেটে যেন চাপ না লাগে যার জন্য দুই পায়ের মধ্যে বালিশ ব্যবহার করতে পারেন।
৩. কোমরে সেঁক দিতে পারেন তবে সেটা হালকা গরম হতে হবে এবং খেয়াল রাখতে হবে সেটা যেন পেটের উপর না যায় তবে সবচেয়ে বেশি ভালো হয় গোসলের সময় যদি হালকা কুসুম গরম পানি কোমরে ঢালেন।
৪. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি হলো কখনো ভারি জিনিস চারবেন না এবং উঁচু-নিচু স্থানে চলাচল থেকে যতটা সম্ভব নিজেকে বিরত রাখবেন যেমন সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করার ক্ষেত্রে।
৫. বসে থাকা বা শুয়ে থাকার ক্ষেত্রে এমন জিনিস ব্যবহার করবেন যেটা আপনার শরীরের সঠিক ভার বহন বা ভারসাম্য রক্ষা করতে পারে এবং আপনার শরীরকে পুরোপুরি সোজা রাখতে পারে, যেমন বসে থাকার ক্ষেত্রে আপনি কাঠের চেয়ার ব্যবহার করতে পারেন তবে প্লাস্টিকের চেয়ার এর পিছন দিকটা যেহেতু হালকা হলেও ঢালু থাকে সেটাই না বসার চেষ্টা করবেন।
৬. বেশি বেশি পুষ্টিকর ক্যালসিয়াম যুক্ত খাবার খাওইয়ার চেষ্টা করবেন , যেমন শাকসবজি দুধ তবে ডিম পিয়ারা ও ডাব খেলে আরো বেশি ভালো এসব খাবার আপনার শরীরের লিগামেন্ট বা বে পেসি গুলো কে শক্ত এবং মজবুত রাখে।
ডাক্তারের নিষেধাজ্ঞা না থাকলে অবশ্যই কোমর ব্যথার ওষুধ খাবেন তবে সেটা ডাক্তারি পরামর্শে।
গর্ভ অবস্থায় কোমরের ব্যথা কমানোর জন্য সঠিক নিয়মে ব্যায়া
কোমর ব্যথা কমানোর জন্য এখানে কিছু ব্যায়াম এর নিয়ম তুলে ধরা হয়েছে। এই ব্যায়ামগুলো নিয়মিত করলে আপনার কোমরের ব্যথা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। আপনাকে খুব সহজে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য ব্যায়ামগুলো ছবি আকারে তুলে ধরা হয়েছে।
ধাপ.১
নিচের ছবিতে দেখানো অনুযায়ী হাত পা কে এমন অবস্থায় রাখুন
যেন-
- কোমর ও হাঁটু যেন একই বরাবর থাকে
- হাতের তালু দুটো যেন কাধ বরাবর থাকে এবং মাথাটা নিচে নুয়ে যেন দুই হাতের মধ্য বরাবর থাকে
- এবার এ অবস্থায় পিঠটা ধীরে ধীরে হালকা উঁচু করুন এভাবে তিন থেকে চার মিনিট থাকুন খুব বেশি না।
ধাপ. 2 এবার দ্বিতীয় ধাপের ছবির মত করেন-
- স্যান্ডেল খুলে খালি পায়ে হাঁটুন
- তবে সমতলভূমিতে হাঁটবেন ঘাস বা দুব্রার উপর হাঁটলে বেশি ভালো
- খুব জোরে না ধীরে ধীরে হাঁটুন তবে মুক্ত ভাবে এভাবে ১৫-২০ মিনিট মতো হাটুন
ধাপ.৩
এবার তৃতীয় ধাপের ছবির মত করেন-
- দেয়ালে হেলানা দিয়ে দাঁড়ান
- পায়ের পাতা এবং দেয়ালের মধ্যে এক ফুট মত দূরত্ব রাখুন
- খেয়াল রাখুন মাথা যেন দেয়ালে লেগে না থাকে
ঘাড়ের নিচ থেকে কোমর অবদি যেন দেয়ালে লেগে থাকে এভাবে তিন থেকে চার মিনিট থাকুন তবে এভাবে থাকার সময় পেটের নিচে হাত দিয়ে থাকবেন
ডাক্তারের কাছে যাওয়া জরুরী কখন
যখন দেখবেন ব্যথা স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে অধিক বেড়ে গেছে। পরে ডাক্তার আপনাকে কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ এবং আরো ভালো প্রক্রিয়ায় ব্যায়াম করার পরামর্শ দিতে পারে।
কোমর ব্যথার সাথে সাথে অন্য কোন মারাত্মক লক্ষণ দেখা গেলেও ডাক্তারের শরণাপন্ন অবশ্যই হবেন যেমন
- হাত পা ফুলে যাওয়া এবং ঝিমঝিম করে অবশ করা
- নিচে যোনিপথ দিয়ে অস্বাভাবিক রক্তপাত হওয়া এবং তরল জাতীয় যেকোনো কিছু বের হওয়া
- অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে পেটে আঘাত পেলে অবশ্যই দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হবেন ।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url